এশিয়ায় ২০ কোটি টন এলএনজি চাহিদা বৃদ্ধির লক্ষ্য হুমকির মুখে

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের জেরে বিশ্বজুড়ে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) বাজারে চরম অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।

বিশেষ করে এশীয় বাজারে আগামী এক দশকে ২০ কোটি টন এলএনজি চাহিদা বৃদ্ধির যে পূর্বাভাস ছিল, তা এখন বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়েছে। কাতারএনার্জির ফোর্স ম্যাজিউর বা অনিবার্য পরিস্থিতির কারণে সরবরাহ বন্ধের ঘোষণার ফলে বিশ্ববাজারের প্রায় ২০ শতাংশ সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান উড ম্যাকেঞ্জি (উডম্যাক) এ বিষয়ে এক বিশেষ প্রতিবেদনে সতর্কবার্তা দিয়েছে।

উডম্যাকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যে উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে কাতারএনার্জি রাস লাফান প্লান্ট থেকে এলএনজি সরবরাহ করতে পারছে না। ফলে বৈশ্বিক সরবরাহ এক-পঞ্চমাংশ কমে যাওয়ায় ২ মার্চের পর থেকে ইউরোপের বাজারে গ্যাসের দাম প্রায় দ্বিগুণ বেড়েছে। উডম্যাকের চেয়ারম্যান সাইমন ফ্লাওয়ার্স মনে করেন, এ পরিস্থিতি ২০২২ সালে রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণের পর তৈরি হওয়া জ্বালানি সংকটের সঙ্গে তুলনীয়। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি তেল ও গ্যাসের অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হলে এ সংকট আরো দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।

এশিয়াই বর্তমানে বিশ্ব এলএনজি চাহিদার মূল কেন্দ্র। উডম্যাকের পূর্বাভাস ছিল, আগামী দশকে এ অঞ্চলে বার্ষিক ২০ কোটি টন এলএনজির চাহিদা বাড়বে। কিন্তু সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা ও দামের ঊর্ধ্বগতি এ অঞ্চলের জ্বালানি নিরাপত্তাকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। এতে জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, চীন ও ভারতের মতো দেশগুলো এলএনজির পরিবর্তে আবার কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের দিকে ঝুঁকতে পারে। পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে ধাবিত হওয়ার গতি বাড়াতে পারে দেশগুলো, যদিও তা তাৎক্ষণিক স্বস্তি দেবে না। এছাড়া গ্যাসের বাড়তি দাম এ দেশগুলোর সামগ্রিক অর্থনীতিতে মূল্যস্ফীতি বাড়িয়ে দেয়ার বড় আশঙ্কা তৈরি করেছে।

উডম্যাকের ভাইস চেয়ারম্যান গ্যাভিন থম্পসন জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা আমদানিকারক দেশগুলোর জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করেছে। সংকট কাটাতে এখন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মোজাম্বিকের মতো বিকল্প উৎসগুলোর এলএনজি প্রকল্পের দিকে নজর দিচ্ছে ক্রেতারা। যদিও উড়োজাহাজ বা জাহাজে করে দূরপাল্লার পরিবহন খরচ ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ থেকেই যাচ্ছে। তবে উডম্যাকের মতে, শুধু যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভর না করে সরবরাহ উৎস আরো বহুমুখী করা প্রয়োজন।

বাজারের আস্থা ফেরাতে এলএনজি খাতে কাঠামোগত পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা দেখছে উডম্যাক। তেলের বাজারের মতো এলএনজি খাতেও বাড়তি উৎপাদন সক্ষমতা এবং পর্যাপ্ত মজুদ ব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি। দীর্ঘমেয়াদে বাজারের স্থিতিশীলতা ফেরাতে সমন্বিত বিনিয়োগ ও নীতিনির্ধারণের ওপর জোর দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

উডম্যাকের মতে, এশিয়ায় কার্বন নিঃসরণ কমাতে এলএনজি এখনো অপরিহার্য। তবে আস্থার সংকট কাটাতে দ্রুত সরবরাহ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

আরও